দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০-৫০ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রতি চারজনে এক ব্যক্তি ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করেছেন। দেশটির ইনস্টিটিউট অব ফাইন্যান্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিনিয়োগকারীদের বেশির ভাগই ৩০-৪০ বছর বয়সী পুরুষ। যারা সাধারণত হোয়াইট-কলার বা দাপ্তরিক পর্যায়ে কাজে যুক্ত। খবর কোরিয়া হেরাল্ড।
‘২০৫০ জেরানেশনস ভার্চুয়াল অ্যাসেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রেন্ডস’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আগের তুলনায় অনেক বদলে গেছে বিনিয়োগকারীদের আচরণ। একসময় বিনিয়োগকারীরা চলতি প্রবণতা অনুসরণ করলেও এখন তারা অনেক বেশি বিশ্লেষণভিত্তিক ও পরিকল্পনা মেনে চলেন।
গবেষণায় দেখা যায়, ঝুঁকি নিতে আগ্রহী ব্যক্তিদেরই ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা বেশি। গড় বিনিয়োগকারীর তুলনায় তাদের সম্পদের তারল্য কম। তবুও তারা আর্থিক সম্পদের বেশির ভাগই বিনিয়োগ করেন, যার মধ্যে প্রায় ১৪ শতাংশই ভার্চুয়াল সম্পদের দখলে।
ক্রিপ্টো খাতে বিনিয়োগে একসময় আগ্রহ তৈরির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল সামনে থাকা সুযোগ কাজে লাগানো। তবে এখন অনেকেই ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা, পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যকরণ এবং পরিকল্পিত সঞ্চয় কৌশলকে বিবেচনা করে এ খাতে বিনিয়োগ করছেন।
এছাড়া বিনিয়োগ-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের উৎসেও পরিবর্তন এসেছে। আগের মতো বন্ধু বা পরিচিতদের প্রভাব কমেছে। এখন এক্সচেঞ্জ ও বিশ্লেষণধর্মী প্লাটফর্মের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।
হানা ইনস্টিটিউট অব ফাইন্যান্সের গবেষক ইউন সন-ইয়ং বলেন, ‘ভার্চুয়াল সম্পদ এরই মধ্যে বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওতে প্রধান ভূমিকা পালন করছে এবং ভবিষ্যতে তা আরো মূলধারায় চলে আসবে। ফলে এ খাতে আইনগত কাঠামো এবং ঐতিহ্যবাহী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা বিস্তৃত করতে হবে।’
প্রতিবেদন অনুসারে, ক্রিপ্টো বাজারে বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় এখনো কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। ৭৬ শতাংশ উত্তরদাতা জানান, তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টকে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জের সঙ্গে যুক্ত করতে না পারা একটি বড় অসুবিধা।
আরো দেখা গেছে, প্রতি ১০ জনে সাত কোরিয়ান ভবিষ্যতে ভার্চুয়াল সম্পদে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।
দক্ষিণ কোরিয়ায় সবচেয়ে জনপ্রিয় ভার্চুয়াল সম্পদ বিটকয়েন। তবে পুরনো অনেক বিনিয়োগকারী এখন স্থিতিশীল ও বৈধ চ্যানেল-নির্ভর স্টেবলকয়েনের প্রতি বাড়তি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।